জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সাংবাদিকের ওপর হামলা, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা



সাংবাদিকের ওপর হামলা, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা
ছবি: প্রতিনিধি

রাজশাহীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট ও ক্যামেরাম্যান আবিরের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হলেও মামলার এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তারা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তারে সময় লাগছে।

এদিকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে—আসামিরা যদি আত্মগোপনে থাকে, তাহলে তাদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা কাজে লাগানো হচ্ছে এবং তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি কী?

এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্রের গাজিউর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে আসামিরা বিভিন্নভাবে আত্মগোপনে থাকায় এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার আসামিরা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বরও বর্তমানে শনাক্ত বা ট্রেস করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র।

পুলিশের মুখপাত্র বলেন, “সাংবাদিকের গায়ে যারা হামলা করেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও জানান।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয়—মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে সর্বশেষ তদন্ত অগ্রগতি বা অগ্রগতি প্রতিবেদন নেওয়া হয়েছে কি না এবং সাংবাদিক সমাজের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার বিষয়টি পুলিশ কমিশনার অবগত আছেন কি না।

পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়, আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিতভাবে অভিযান ও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

পুলিশের মুখপাত্র বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিনই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তারা আত্মগোপনে থাকায় এবং যোগাযোগের নম্বরগুলো সক্রিয়ভাবে পাওয়া না যাওয়ায় গ্রেপ্তার কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে।‘আমাদের জানালে আরও সহযোগিতা করা যেত’—পুলিশের মুখপাত্র সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে পুলিশের মুখপাত্র কিছুটা ক্ষোপ নিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে তাকে ব্যক্তিগতভাবে বা সংশ্লিষ্ট ডিসিকে জানালে পুলিশ আরও দ্রুত সহযোগিতা করতে পারত।

তিনি বলেন, “আপনারা শাহমখদুমের ডিসিকে জানাতে পারতেন, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানাতে পারতেন—দেখতেন আমি কী ব্যবস্থা নিতাম।”তার ভাষ্য, সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ নীরব থাকার পক্ষপাতী নয়।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো আসামির অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক এমন তথ্য সাংবাদিকদের হাতে থাকলে তা পুলিশকে জানানো হলে তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় সহায়তা হবে।

‘সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে পুলিশ চুপ থাকবে কেন?’পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার মতো ঘটনায় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকবে—এমনটি তিনি মনে করেন না।


তিনি বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলা হবে, সেখানে আমরা চুপ থাকি কী করে?”তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় আসামিরা সতর্ক হয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে সাংবাদিক নেতারা বলছেন, হামলার ঘটনার পর প্রায় ১০টি সাংবাদিক সংগঠন একত্র হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। সেই সময়সীমা পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, আসামিরা আত্মগোপনে থাকলেও তাদের অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান, সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে—তা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে থাকলে তদন্তের স্বার্থে কী কী বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও জানার আগ্রহ রয়েছে সাংবাদিক সমাজের।

মামলার তদন্তেই মিলবে পরবর্তী চিত্রসাংবাদিক ইব্রাহীম হোসেন সম্রাটের ওপর হামলা এবং ক্যামেরাম্যান আবিরের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় শাহমখদুম থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজ দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।

এখন মূল অপেক্ষা—তদন্ত কত দ্রুত এগোয়, আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ কত দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারে এবং মামলার অভিযোগগুলো তদন্তে কতটা প্রমাণিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাংবাদিকের ওপর হামলা, এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজশাহীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট ও ক্যামেরাম্যান আবিরের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হলেও মামলার এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তারা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেপ্তারে সময় লাগছে।

এদিকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে—আসামিরা যদি আত্মগোপনে থাকে, তাহলে তাদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কতটা কাজে লাগানো হচ্ছে এবং তদন্তের বর্তমান অগ্রগতি কী?

এ বিষয়ে পুলিশের মুখপাত্রের গাজিউর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে আসামিরা বিভিন্নভাবে আত্মগোপনে থাকায় এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার আসামিরা সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হওয়ার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের নম্বরও বর্তমানে শনাক্ত বা ট্রেস করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র।

পুলিশের মুখপাত্র বলেন, “সাংবাদিকের গায়ে যারা হামলা করেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও জানান।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয়—মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে সর্বশেষ তদন্ত অগ্রগতি বা অগ্রগতি প্রতিবেদন নেওয়া হয়েছে কি না এবং সাংবাদিক সমাজের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমার বিষয়টি পুলিশ কমিশনার অবগত আছেন কি না।

পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সন্তোষজনক উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি জানানো হয়, আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিতভাবে অভিযান ও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

পুলিশের মুখপাত্র বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিনই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তারা আত্মগোপনে থাকায় এবং যোগাযোগের নম্বরগুলো সক্রিয়ভাবে পাওয়া না যাওয়ায় গ্রেপ্তার কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে।‘আমাদের জানালে আরও সহযোগিতা করা যেত’—পুলিশের মুখপাত্র সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে পুলিশের মুখপাত্র কিছুটা ক্ষোপ নিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে তাকে ব্যক্তিগতভাবে বা সংশ্লিষ্ট ডিসিকে জানালে পুলিশ আরও দ্রুত সহযোগিতা করতে পারত।

তিনি বলেন, “আপনারা শাহমখদুমের ডিসিকে জানাতে পারতেন, আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জানাতে পারতেন—দেখতেন আমি কী ব্যবস্থা নিতাম।”তার ভাষ্য, সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ নীরব থাকার পক্ষপাতী নয়।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো আসামির অবস্থান বা গ্রেপ্তারে সহায়ক এমন তথ্য সাংবাদিকদের হাতে থাকলে তা পুলিশকে জানানো হলে তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় সহায়তা হবে।

‘সাংবাদিকের ওপর হামলা হলে পুলিশ চুপ থাকবে কেন?’পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার মতো ঘটনায় পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকবে—এমনটি তিনি মনে করেন না।


তিনি বলেন, “সাংবাদিকের ওপর হামলা হবে, সেখানে আমরা চুপ থাকি কী করে?”তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় আসামিরা সতর্ক হয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে সাংবাদিক নেতারা বলছেন, হামলার ঘটনার পর প্রায় ১০টি সাংবাদিক সংগঠন একত্র হয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। সেই সময়সীমা পার হলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, আসামিরা আত্মগোপনে থাকলেও তাদের অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান, সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে অভিযান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে—তা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

একই সঙ্গে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে থাকলে তদন্তের স্বার্থে কী কী বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও জানার আগ্রহ রয়েছে সাংবাদিক সমাজের।

মামলার তদন্তেই মিলবে পরবর্তী চিত্রসাংবাদিক ইব্রাহীম হোসেন সম্রাটের ওপর হামলা এবং ক্যামেরাম্যান আবিরের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় শাহমখদুম থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক সমাজ দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।

এখন মূল অপেক্ষা—তদন্ত কত দ্রুত এগোয়, আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ কত দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারে এবং মামলার অভিযোগগুলো তদন্তে কতটা প্রমাণিত হয়।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত