জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

তুচ্ছ ঘটনায় রাজশাহীতে বঁটি দিয়ে মা ও ছোট ভাইকে কোপালো নেশাগ্রস্ত বড় ভাই,আটক মুন্না



তুচ্ছ ঘটনায় রাজশাহীতে বঁটি দিয়ে মা ও ছোট ভাইকে কোপালো নেশাগ্রস্ত বড় ভাই,আটক মুন্না
ছবি- প্রতিনিধি

​রাজশাহী মহানগরীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন মা ও ছোট ভাইকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে নেশাগ্রস্ত বড় ভাই মুন্নার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুন্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে আহত মা ও ছোট ভাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রিমা থানাধীন কায়েদপাড়া ক্যাডেট কলেজ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন,মৃত আব্দুল রহিমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৭) ও তার ছোট ছেলে মৃদুল (২৭)।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভাগ্নি সুমাইয়া জানান, রাতে বড় মামা মুন্নার সাথে ছোট মামা মৃদুলের ঠাট্টা-তামাশার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন নানি এসে দুজনকে চড় মেরে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দেন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর চিৎকার শুনে বাইরে এসে তিনি দেখেন, নানি রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন এবং ছোট মামাকে বড় মামা বঁটি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে যাচ্ছেন। তাকে দেখে বড় মামা তেড়ে আসলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান। তিনি আরও জানান, মুন্না একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি এবং এর আগে দুবার রিহাবে গেলেও ভালো হননি। এর আগেও সে ছোট মামাকে চাকু দিয়ে আঘাত করেছিল।

​প্রত্যক্ষদর্শী শাওন জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তাদের সামনেই মুন্না মা ও ছোট ভাইকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে যাচ্ছিল এবং বাধা দিলে তেড়ে আসছিল। পরে এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুড়লে মুন্না বাড়ির ভেতর ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। এরপর দরজা ভেঙে তারা উলঙ্গ ও রক্তাক্ত অবস্থায় মৃদুল ও মনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

​রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে. বিশ্বাস জানান, রাত ১২টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসক মুন্না ও মৃদুলকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মনোয়ারা টুলুকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে মা মনোয়ারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং ছেলে মৃদুল আশংকামুক্ত।

​আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চন্দ্রিমা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে আহতদের উদ্ধার করে। এ সময় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা হামলাকারী মুন্নাকে মারধর করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহত তিনজনকেই উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে।

​এ ঘটনায় আহত মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে বাদী হয়ে গত রাতে চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হামলাকারী মো. মেহেদী হাসান ওরফে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মা মনোয়ারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তুচ্ছ ঘটনায় রাজশাহীতে বঁটি দিয়ে মা ও ছোট ভাইকে কোপালো নেশাগ্রস্ত বড় ভাই,আটক মুন্না

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​রাজশাহী মহানগরীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন মা ও ছোট ভাইকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে নেশাগ্রস্ত বড় ভাই মুন্নার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুন্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে আহত মা ও ছোট ভাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

​শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রিমা থানাধীন কায়েদপাড়া ক্যাডেট কলেজ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন,মৃত আব্দুল রহিমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫৭) ও তার ছোট ছেলে মৃদুল (২৭)।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভাগ্নি সুমাইয়া জানান, রাতে বড় মামা মুন্নার সাথে ছোট মামা মৃদুলের ঠাট্টা-তামাশার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তখন নানি এসে দুজনকে চড় মেরে নিজ নিজ ঘরে পাঠিয়ে দেন। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর চিৎকার শুনে বাইরে এসে তিনি দেখেন, নানি রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন এবং ছোট মামাকে বড় মামা বঁটি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে যাচ্ছেন। তাকে দেখে বড় মামা তেড়ে আসলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চান। তিনি আরও জানান, মুন্না একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি এবং এর আগে দুবার রিহাবে গেলেও ভালো হননি। এর আগেও সে ছোট মামাকে চাকু দিয়ে আঘাত করেছিল।

​প্রত্যক্ষদর্শী শাওন জানান, খবর পেয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। তাদের সামনেই মুন্না মা ও ছোট ভাইকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে যাচ্ছিল এবং বাধা দিলে তেড়ে আসছিল। পরে এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুড়লে মুন্না বাড়ির ভেতর ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। এরপর দরজা ভেঙে তারা উলঙ্গ ও রক্তাক্ত অবস্থায় মৃদুল ও মনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

​রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে. বিশ্বাস জানান, রাত ১২টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসক মুন্না ও মৃদুলকে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এবং মনোয়ারা টুলুকে ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে মা মনোয়ারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং ছেলে মৃদুল আশংকামুক্ত।

​আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চন্দ্রিমা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে আহতদের উদ্ধার করে। এ সময় স্থানীয় উত্তেজিত জনতা হামলাকারী মুন্নাকে মারধর করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহত তিনজনকেই উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে।

​এ ঘটনায় আহত মনোয়ারা খাতুনের মেয়ে বাদী হয়ে গত রাতে চন্দ্রিমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হামলাকারী মো. মেহেদী হাসান ওরফে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো বঁটিটি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হলে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মা মনোয়ারা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক রয়েছে।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত