জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

চলতি অর্থবছরের স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন করা হবে --স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী



চলতি অর্থবছরের স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন করা হবে --স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
ছবি- সংগৃহীত

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, এ জন্য বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বাজেটে অর্থ রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ এই পাঁচ ধরনের নির্বাচনে মোট প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ পুরো নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকার- সংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ নতুন সরকার সংসদে আইন আকারে পাস করেছে। এ সব আইনে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রার্থীদের দলীয়ভাবে সমর্থন দিতে পারবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির প্রার্থী সমর্থনের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, গত ১৭ বছর যারা নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং মাঠে ছিলেন,এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সততা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কারও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনী মাঠে অভিজ্ঞতা কম থাকলে তাকে অন্যভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আবার কেউ নির্বাচনে অভিজ্ঞ হলেও গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন না, তাকেও দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করা হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে সরকার তাতে বাধা দেবে না। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান তিনি। 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সাময়িক অসুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, এ খাতে সরকারের স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র থেকে কোনো দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। তাই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও কেন্দ্র থেকে নেওয়া হবে না; স্থানীয় বিএনপি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চলতি অর্থবছরের স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন করা হবে --স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, এ জন্য বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বাজেটে অর্থ রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদ এই পাঁচ ধরনের নির্বাচনে মোট প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ পুরো নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা স্থানীয় সরকার- সংক্রান্ত পাঁচটি অধ্যাদেশ নতুন সরকার সংসদে আইন আকারে পাস করেছে। এ সব আইনে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান বাতিল করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন সাধারণ প্রতীকে এবং নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রার্থীদের দলীয়ভাবে সমর্থন দিতে পারবে বলে জানান তিনি।

বিএনপির প্রার্থী সমর্থনের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, গত ১৭ বছর যারা নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, মামলা-হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং মাঠে ছিলেন,এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সততা, গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কারও আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনী মাঠে অভিজ্ঞতা কম থাকলে তাকে অন্যভাবে মূল্যায়ন করা হবে। আবার কেউ নির্বাচনে অভিজ্ঞ হলেও গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন না, তাকেও দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করা হবে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলে সরকার তাতে বাধা দেবে না। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান তিনি। 

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে সাময়িক অসুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, এ খাতে সরকারের স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র থেকে কোনো দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। তাই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও কেন্দ্র থেকে নেওয়া হবে না; স্থানীয় বিএনপি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত