জয়পুরহাট    শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

প্রকৃতির তুলিতে আঁকা শরৎ, কাশফুলে সেজেছে হিলির নদীতীর



প্রকৃতির তুলিতে আঁকা শরৎ, কাশফুলে সেজেছে হিলির নদীতীর
ছবি : প্রতিনিধি

শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন করে সেজে উঠেছে। নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো তুলোর মতো সাদা মেঘ, মৃদু বাতাসের ছোঁয়া আর নদীর দু’পাশজুড়ে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মোহনীয় দৃশ্যপট। 

সাদা কাশফুলের সমারোহে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ছোট যমুনা নদীর দুই তীর এখন যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। শরতের এই নয়নাভিরাম রূপ দেখতে প্রতিদিনই নদীর পাড়ে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা।

হিলির ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীর দুই তীরজুড়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকা এখন কাশফুলে সাদা হয়ে উঠেছে। বাতাসের দোলায় কাশফুলের নরম শুভ্র শীষগুলো একসঙ্গে দুলতে থাকলে দূর থেকে মনে হয়, সবুজ জমিনের ওপর কেউ যেন সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, কাশবনের সারি আর শরতের আকাশ মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

বাংলা ঋতুচক্রে আশ্বিন ও কার্তিক মাসজুড়ে থাকে শরৎকাল। বর্ষার বিদায়ের পর প্রকৃতিতে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়, তার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কাশফুল। যুগ যুগ ধরে কাশফুল শরতের প্রতীক হিসেবে বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শরতের নির্মল আকাশের নিচে নদীর তীরে ফুটে থাকা কাশফুল যেন প্রকৃতির পক্ষ থেকে ঋতু পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই নদীর দুই তীরে কাশগাছ বেড়ে উঠতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে ফুটতে থাকে সাদা কাশফুল। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন অংশজুড়ে কাশবনের যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম সুন্দর বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিকেলের দিকে ছোট যমুনা নদীর পাড়ে গেলে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। আবার অনেকেই কাশবনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার জন্য ভিডিও ধারণ করছেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার সময় কাশফুলের ওপর সোনালি আলো পড়লে পুরো এলাকা আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, প্রতিবছর শরৎ এলেই ছোট যমুনার দুই পাড় কাশফুলে ভরে যায়। কিন্তু এ বছর কাশফুলের সমারোহ যেন একটু বেশিই। বিকেলে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সাদা কাশফুল আর নীল আকাশের দৃশ্য দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়।

আরেক বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, শহরের ব্যস্ত জীবনে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। তাই সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে এখানে আসি। কাশফুলের সৌন্দর্য সত্যিই মনকে প্রশান্ত করে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কাশফুল শুধু একটি মৌসুমি ফুল নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। শরতের কাশবন মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং ব্যস্ততার মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেয়। 

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন কংক্রিটের শহর ক্রমেই প্রকৃতিকে গ্রাস করছে, তখন এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে নতুন করে প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট করে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার বলেন, কাশফুল দেখলে মনে হয় শরৎ সত্যিই এসে গেছে। বইয়ে পড়া শরতের সৌন্দর্য বাস্তবে দেখতে খুব ভালো লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে প্রায়ই নদীর পাড়ে আসি।

এদিকে, প্রকৃতি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, নদীর তীরবর্তী এসব প্রাকৃতিক কাশবন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। অপরিকল্পিতভাবে গাছপালা নিধন কিংবা নদীর তীর দখল করা হলে ভবিষ্যতে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হারিয়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে শরতের স্নিগ্ধ আবহ, মেঘমুক্ত নীল আকাশ, নদীর কলতান আর শুভ্র কাশফুলের সমারোহে হিলির ছোট যমুনা নদীর দুই তীর এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ঋতুর এই অপার সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছে, বর্ষার বিদায় হয়েছে, সামনে অপেক্ষা করছে হেমন্ত ও শীতের আগমনী বার্তা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রকৃতির তুলিতে আঁকা শরৎ, কাশফুলে সেজেছে হিলির নদীতীর

প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন করে সেজে উঠেছে। নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো তুলোর মতো সাদা মেঘ, মৃদু বাতাসের ছোঁয়া আর নদীর দু’পাশজুড়ে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মোহনীয় দৃশ্যপট। 

সাদা কাশফুলের সমারোহে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ছোট যমুনা নদীর দুই তীর এখন যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। শরতের এই নয়নাভিরাম রূপ দেখতে প্রতিদিনই নদীর পাড়ে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী, ভ্রমণপিপাসু ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা।

হিলির ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট যমুনা নদীর দুই তীরজুড়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকা এখন কাশফুলে সাদা হয়ে উঠেছে। বাতাসের দোলায় কাশফুলের নরম শুভ্র শীষগুলো একসঙ্গে দুলতে থাকলে দূর থেকে মনে হয়, সবুজ জমিনের ওপর কেউ যেন সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, কাশবনের সারি আর শরতের আকাশ মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

বাংলা ঋতুচক্রে আশ্বিন ও কার্তিক মাসজুড়ে থাকে শরৎকাল। বর্ষার বিদায়ের পর প্রকৃতিতে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়, তার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কাশফুল। যুগ যুগ ধরে কাশফুল শরতের প্রতীক হিসেবে বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শরতের নির্মল আকাশের নিচে নদীর তীরে ফুটে থাকা কাশফুল যেন প্রকৃতির পক্ষ থেকে ঋতু পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই নদীর দুই তীরে কাশগাছ বেড়ে উঠতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে ফুটতে থাকে সাদা কাশফুল। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন অংশজুড়ে কাশবনের যে দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম সুন্দর বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিকেলের দিকে ছোট যমুনা নদীর পাড়ে গেলে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছেন। আবার অনেকেই কাশবনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার জন্য ভিডিও ধারণ করছেন। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার সময় কাশফুলের ওপর সোনালি আলো পড়লে পুরো এলাকা আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, প্রতিবছর শরৎ এলেই ছোট যমুনার দুই পাড় কাশফুলে ভরে যায়। কিন্তু এ বছর কাশফুলের সমারোহ যেন একটু বেশিই। বিকেলে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সাদা কাশফুল আর নীল আকাশের দৃশ্য দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়।

আরেক বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, শহরের ব্যস্ত জীবনে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। তাই সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে এখানে আসি। কাশফুলের সৌন্দর্য সত্যিই মনকে প্রশান্ত করে।

প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কাশফুল শুধু একটি মৌসুমি ফুল নয়, এটি বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। শরতের কাশবন মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যায় এবং ব্যস্ততার মাঝে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেয়। 

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন কংক্রিটের শহর ক্রমেই প্রকৃতিকে গ্রাস করছে, তখন এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষকে নতুন করে প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট করে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী মোহনা আক্তার বলেন, কাশফুল দেখলে মনে হয় শরৎ সত্যিই এসে গেছে। বইয়ে পড়া শরতের সৌন্দর্য বাস্তবে দেখতে খুব ভালো লাগে। বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে প্রায়ই নদীর পাড়ে আসি।

এদিকে, প্রকৃতি ও পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, নদীর তীরবর্তী এসব প্রাকৃতিক কাশবন সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। অপরিকল্পিতভাবে গাছপালা নিধন কিংবা নদীর তীর দখল করা হলে ভবিষ্যতে এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য হারিয়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে শরতের স্নিগ্ধ আবহ, মেঘমুক্ত নীল আকাশ, নদীর কলতান আর শুভ্র কাশফুলের সমারোহে হিলির ছোট যমুনা নদীর দুই তীর এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ঋতুর এই অপার সৌন্দর্য যেন প্রকৃতির ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছে, বর্ষার বিদায় হয়েছে, সামনে অপেক্ষা করছে হেমন্ত ও শীতের আগমনী বার্তা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত