জয়পুরহাট    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহীর এলাহী কান্ড



চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহীর এলাহী কান্ড
ছবি- প্রতিনিধি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা দক্ষিণ পলাশবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সরকার দলিয় হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি, সেই বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাড়তে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। তাছাড়াও শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী এমপিও শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাড়লে অনলাইনে আবেদন করার সময় শিক্ষক প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন (এনটিআরসিএ) শিক্ষকদের এমপিও ফাইল টাকা ছাড়া পাঠায় না। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত কর্মচারী অফিস পিয়ন, আয়া, নিরাপত্তা প্রহরী ও নাইট গার্ড পদে নিয়োগ কৃতদের কাছ থেকে জন প্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।

নতুনভাবে এমপিও হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিও ফাইল পাঠানোর জন্য প্রত্যেকের শিক্ষকের কাছে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ফাইল পাঠান। টাকা না দিলে বা টাকা কম দিতে চাইলে তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। তার এই টাকা তোলার দায়িত্ব আছে অফিসের দুই অফিস সহকারী রহিম ও ফরিদ তাদের মাধ্যমে তিন টাকা নেন।

ভুক্তভোগী দক্ষিণ পলাশ বাড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গনিত তারিকুজ্জামান বলেন, আমার বেতন স্কেল বাড়ানো জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী টাকা নিয়েছেন। 

আমি দিনাজপুর ৪ আসনের মাননীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের সরকার দলিয় হুইপের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ও আমাদের বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি তার পরেও অনলাইন আমার ফাইল পাঠাতে ৪ হাজার টাকা চায় টাকা দিতে না পারায় ফাইল আটকে রাখে পরে ১৬০০ টাকা দিছে তার পরে ফাইল সেন্ড করছে।

একই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আইসিটি কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কাজের আগে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী নিজেক খুব ক্ষমতাধর ব্যাক্তি মনে করেন। আমি বলছি স্যার আমার বিদ্যালয়ের সভাপতি সরকার দলীয় হুইপ, তিনি বলছেন হুইপকে আমাকে ফোন দিতে বলেন না হলে টাকা দেন পরে বাধ্য হয়ে দুই হাজার টাকা দিছি তার পরে বেতন স্কেল বাড়ানো জন্য ফাইল পাঠিয়েছে।

দক্ষিন সুখদেবপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক সহকারি শিক্ষক জানান, আমাদের স্কুল নতুন এমপিও হয় তখন শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে এমপিও ফাইলে সই করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত কর্মচারী অফিস পিয়ন, আয়া নিয়োগ পদে প্রতেকের কাছে এক লাখ টাকারে করে নিয়েছে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুুক রাজাপুর বুড়িহাট উচ্চ দ্যিালয়, সিঙ্গানগর উচ্চ বিদ্যালয়, বিন্যাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধি বিদ্যালায়ের সহকারি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী আমাদের বিদ্যালয়ের যে কোন কাজ করতে গেলে ওনাকে নাকি চা নাস্তা খাবার টাকা দিতে হবে। কোন শিক্ষক যদি টাকা না দেয় তাহলে তার কাজ হয় না। 

টাকা ছাড়া কোন কাজ করে না মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তিনি দীর্ঘনি ধরে বহাল তবিয়তে আছে। শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে সেই শিক্ষককে নানান ভাবে হেনস্তা করেন তিনি। এজন্য ভয়ে মুখ খুলে না টাকা দিয়ে কাজ করে নেয়।

এবিষয়ে চিরিরবন্দর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী জানায়, এসব সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি সব কাজ করে দেই শিক্ষকদের। কিছু শিক্ষক হুইপ সাহেবের রেফারেন্স দেয় আমি বলছি হুইপ সাহেব কে ফোন দিতে বলেন। তারা হয়ত এজন্য অভিযোগ তুলেছে।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


চিরিরবন্দর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহীর এলাহী কান্ড

প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা দক্ষিণ পলাশবাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সরকার দলিয় হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া এমপি, সেই বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাড়তে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে। তাছাড়াও শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী এমপিও শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাড়লে অনলাইনে আবেদন করার সময় শিক্ষক প্রতি তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। 

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন (এনটিআরসিএ) শিক্ষকদের এমপিও ফাইল টাকা ছাড়া পাঠায় না। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত কর্মচারী অফিস পিয়ন, আয়া, নিরাপত্তা প্রহরী ও নাইট গার্ড পদে নিয়োগ কৃতদের কাছ থেকে জন প্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন।

নতুনভাবে এমপিও হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিও ফাইল পাঠানোর জন্য প্রত্যেকের শিক্ষকের কাছে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে ফাইল পাঠান। টাকা না দিলে বা টাকা কম দিতে চাইলে তিনি ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। তার এই টাকা তোলার দায়িত্ব আছে অফিসের দুই অফিস সহকারী রহিম ও ফরিদ তাদের মাধ্যমে তিন টাকা নেন।

ভুক্তভোগী দক্ষিণ পলাশ বাড়ি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গনিত তারিকুজ্জামান বলেন, আমার বেতন স্কেল বাড়ানো জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী টাকা নিয়েছেন। 

আমি দিনাজপুর ৪ আসনের মাননীয় এমপি ও জাতীয় সংসদের সরকার দলিয় হুইপের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ও আমাদের বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি তার পরেও অনলাইন আমার ফাইল পাঠাতে ৪ হাজার টাকা চায় টাকা দিতে না পারায় ফাইল আটকে রাখে পরে ১৬০০ টাকা দিছে তার পরে ফাইল সেন্ড করছে।

একই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক আইসিটি কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে কাজের আগে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী নিজেক খুব ক্ষমতাধর ব্যাক্তি মনে করেন। আমি বলছি স্যার আমার বিদ্যালয়ের সভাপতি সরকার দলীয় হুইপ, তিনি বলছেন হুইপকে আমাকে ফোন দিতে বলেন না হলে টাকা দেন পরে বাধ্য হয়ে দুই হাজার টাকা দিছি তার পরে বেতন স্কেল বাড়ানো জন্য ফাইল পাঠিয়েছে।

দক্ষিন সুখদেবপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক সহকারি শিক্ষক জানান, আমাদের স্কুল নতুন এমপিও হয় তখন শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী আমাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে এমপিও ফাইলে সই করেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগকৃত কর্মচারী অফিস পিয়ন, আয়া নিয়োগ পদে প্রতেকের কাছে এক লাখ টাকারে করে নিয়েছে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুুক রাজাপুর বুড়িহাট উচ্চ দ্যিালয়, সিঙ্গানগর উচ্চ বিদ্যালয়, বিন্যাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধি বিদ্যালায়ের সহকারি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী আমাদের বিদ্যালয়ের যে কোন কাজ করতে গেলে ওনাকে নাকি চা নাস্তা খাবার টাকা দিতে হবে। কোন শিক্ষক যদি টাকা না দেয় তাহলে তার কাজ হয় না। 

টাকা ছাড়া কোন কাজ করে না মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তিনি দীর্ঘনি ধরে বহাল তবিয়তে আছে। শিক্ষকরা প্রতিবাদ করলে সেই শিক্ষককে নানান ভাবে হেনস্তা করেন তিনি। এজন্য ভয়ে মুখ খুলে না টাকা দিয়ে কাজ করে নেয়।

এবিষয়ে চিরিরবন্দর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী জানায়, এসব সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি সব কাজ করে দেই শিক্ষকদের। কিছু শিক্ষক হুইপ সাহেবের রেফারেন্স দেয় আমি বলছি হুইপ সাহেব কে ফোন দিতে বলেন। তারা হয়ত এজন্য অভিযোগ তুলেছে।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত