জয়পুরহাট    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পূজায় হিলিতে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের কদর, দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা



পূজায় হিলিতে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের কদর, দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা
ছবি- প্রতিনিধি

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি বাজারে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা। উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ নারিকেলের নাড়ু ও ময়া তৈরির উপকরণ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজার প্রস্তুতিতে বাড়িতে বাড়িতে চলছে নানা আয়োজন। আর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে জমে উঠতে শুরু করেছে নারিকেল ও গুড়ের বেচাকেনা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় বাজারে এর সরবরাহ বেড়েছে। ফলে প্রতি পিস নারিকেলের দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকায় নেমেছে। এতে পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে এসে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে দেশি ও ভারতীয় আখের গুড়ের দাম এখনো তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে দেশি আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে হিলি বাজারের নারিকেল ও গুড়ের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, দোকানিরা সাজিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের নারিকেল ও গুড়। কোথাও মাটির বড় পাত্রে রাখা হয়েছে দেশি আখের গুড়, আবার কোথাও টিনের পাত্রে বিক্রি হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি করা গুড়। পূজার কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী কিনছেন এসব উপকরণ। বিশেষ করে নারিকেলের নাড়ু ও ময়া তৈরির জন্য নারিকেল এবং গুড়ের খোঁজ করছেন অনেকে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক মিলন, আনন্দ, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও নানা সামাজিক আয়োজন। পূজার দিনগুলোতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়নে ঘরে তৈরি নাড়ু, ময়া এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়। আর এসব খাবার তৈরির প্রধান উপকরণ নারিকেল ও গুড় হওয়ায় উৎসবের আগে বাজারে এ দুটি পণ্যের চাহিদা বাড়ে।

বাজারে নারিকেল ও গুড় কিনতে আসা পলাশ শীল বলেন, আগামী শনিবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আমাদের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পূজার সময় বাড়িতে নানা ধরনের খাবার তৈরি করা হয়। বিশেষ করে গুড় ও নারিকেল দিয়ে তৈরি নাড়ুর চাহিদা অনেক বেশি। তাই উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে বাজারে নারিকেল ও গুড় কিনতে এসেছি। গতবারের তুলনায় এবার নারিকেলের দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ হয়েছে।

আরেক ক্রেতা অলক কুমার বসাক বলেন, আমাদের পূজার খাবারের মধ্যে নারিকেলের নাড়ুর বিশেষ কদর রয়েছে। এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা পূজার আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিরা আসেন। তাদের আপ্যায়নের জন্যও নাড়ু ও ময়া তৈরি করা হয়। তাই পূজার আগে নারিকেল ও গুড় কিনতে বাজারে এসেছি। নারিকেলের দাম কিছুটা কমায় ভালো লাগছে। দাম সহনীয় থাকলে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে সুবিধা হয়।

হিলি বাজারের নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে নারিকেলের বেচাকেনা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্রেতারা নাড়ু ও ময়া তৈরির জন্য নারিকেল বেশি কেনেন। ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও কমেছে। আগে যে নারিকেল ১০০ টাকা করে বিক্রি করেছি, এখন তা ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। দাম কম থাকায় ক্রেতারাও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসবে, বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

বাজারের গুড় ব্যবসায়ী নিরঞ্জন বসাক বলেন, বর্তমানে গুড়ের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা দেশি আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। দুর্গাপূজার সময় নারিকেলের নাড়ু ও ময়া তৈরির জন্য গুড়ের চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে এ সময়ে আমাদের বেচাকেনাও অন্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়। এখন পর্যন্ত দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী গুড় কিনছেন। পূজা ঘনিয়ে এলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূজাকে কেন্দ্র করে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা বাড়লেও এখন পর্যন্ত দামের বড় ধরনের কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। বিশেষ করে নারিকেলের দাম কমে আসায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে উৎসবের শেষ মুহূর্তে চাহিদা বাড়লে বাজার পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেদিকেও নজর রাখছেন ক্রেতারা।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে হিলি বাজারে নারিকেল ও গুড়ের বেচাকেনায় বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নাড়ু ও ময়া তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। 

অন্যদিকে, ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় আশাবাদী ব্যবসায়ীরাও। নারিকেলের দাম কম থাকায় স্বস্তি নিয়ে পূজার কেনাকাটা সারতে পারছেন অনেকেই। এখন উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসবে, বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা ও বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


পূজায় হিলিতে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের কদর, দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে দিনাজপুরের হিলি বাজারে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা। উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ নারিকেলের নাড়ু ও ময়া তৈরির উপকরণ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজার প্রস্তুতিতে বাড়িতে বাড়িতে চলছে নানা আয়োজন। আর এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে জমে উঠতে শুরু করেছে নারিকেল ও গুড়ের বেচাকেনা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় বাজারে এর সরবরাহ বেড়েছে। ফলে প্রতি পিস নারিকেলের দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকায় নেমেছে। এতে পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে এসে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে দেশি ও ভারতীয় আখের গুড়ের দাম এখনো তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে দেশি আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে হিলি বাজারের নারিকেল ও গুড়ের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, দোকানিরা সাজিয়ে রেখেছেন বিভিন্ন ধরনের নারিকেল ও গুড়। কোথাও মাটির বড় পাত্রে রাখা হয়েছে দেশি আখের গুড়, আবার কোথাও টিনের পাত্রে বিক্রি হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি করা গুড়। পূজার কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী কিনছেন এসব উপকরণ। বিশেষ করে নারিকেলের নাড়ু ও ময়া তৈরির জন্য নারিকেল এবং গুড়ের খোঁজ করছেন অনেকে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পারিবারিক মিলন, আনন্দ, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও নানা সামাজিক আয়োজন। পূজার দিনগুলোতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়নে ঘরে তৈরি নাড়ু, ময়া এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়। আর এসব খাবার তৈরির প্রধান উপকরণ নারিকেল ও গুড় হওয়ায় উৎসবের আগে বাজারে এ দুটি পণ্যের চাহিদা বাড়ে।

বাজারে নারিকেল ও গুড় কিনতে আসা পলাশ শীল বলেন, আগামী শনিবার ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে আমাদের শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পূজার সময় বাড়িতে নানা ধরনের খাবার তৈরি করা হয়। বিশেষ করে গুড় ও নারিকেল দিয়ে তৈরি নাড়ুর চাহিদা অনেক বেশি। তাই উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে বাজারে নারিকেল ও গুড় কিনতে এসেছি। গতবারের তুলনায় এবার নারিকেলের দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কেনাকাটা করা কিছুটা সহজ হয়েছে।

আরেক ক্রেতা অলক কুমার বসাক বলেন, আমাদের পূজার খাবারের মধ্যে নারিকেলের নাড়ুর বিশেষ কদর রয়েছে। এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, যা পূজার আনন্দের সঙ্গে মিশে আছে। বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিরা আসেন। তাদের আপ্যায়নের জন্যও নাড়ু ও ময়া তৈরি করা হয়। তাই পূজার আগে নারিকেল ও গুড় কিনতে বাজারে এসেছি। নারিকেলের দাম কিছুটা কমায় ভালো লাগছে। দাম সহনীয় থাকলে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করতে সুবিধা হয়।

হিলি বাজারের নারিকেল ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে নারিকেলের বেচাকেনা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্রেতারা নাড়ু ও ময়া তৈরির জন্য নারিকেল বেশি কেনেন। ভারত থেকে নারিকেল আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দামও কমেছে। আগে যে নারিকেল ১০০ টাকা করে বিক্রি করেছি, এখন তা ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। দাম কম থাকায় ক্রেতারাও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন। পূজার দিন যত ঘনিয়ে আসবে, বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

বাজারের গুড় ব্যবসায়ী নিরঞ্জন বসাক বলেন, বর্তমানে গুড়ের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা দেশি আখের গুড় প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকা এবং ভারত থেকে আমদানি করা আখের গুড় ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। দুর্গাপূজার সময় নারিকেলের নাড়ু ও ময়া তৈরির জন্য গুড়ের চাহিদা বেড়ে যায়। এ কারণে এ সময়ে আমাদের বেচাকেনাও অন্য সময়ের তুলনায় বেশি হয়। এখন পর্যন্ত দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী গুড় কিনছেন। পূজা ঘনিয়ে এলে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূজাকে কেন্দ্র করে নারিকেল ও গুড়ের চাহিদা বাড়লেও এখন পর্যন্ত দামের বড় ধরনের কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। বিশেষ করে নারিকেলের দাম কমে আসায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে উৎসবের শেষ মুহূর্তে চাহিদা বাড়লে বাজার পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেদিকেও নজর রাখছেন ক্রেতারা।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে হিলি বাজারে নারিকেল ও গুড়ের বেচাকেনায় বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। ঐতিহ্যবাহী নাড়ু ও ময়া তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। 

অন্যদিকে, ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় আশাবাদী ব্যবসায়ীরাও। নারিকেলের দাম কম থাকায় স্বস্তি নিয়ে পূজার কেনাকাটা সারতে পারছেন অনেকেই। এখন উৎসবের দিন যত এগিয়ে আসবে, বাজারে এসব পণ্যের চাহিদা ও বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত