জয়পুরহাট    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আশুলিয়ায় সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ



আশুলিয়ায় সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ
ছবি- প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) নতুন শাখার সামনের ফুটওভারব্রিজের নিচে সরকারি জায়গায় স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে অগ্রিম ও মাসিক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রিয়াজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চারটি দোকান থেকে অগ্রিম বাবদ লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি দোকানের বিপরীতে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোকানপ্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব দোকান নির্মাণের অনুমোদন, লিজের বৈধতা এবং অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত রিয়াজের দাবি, তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে তাসরিফের নামে দোকানগুলো লিজ নেওয়া হয়েছে। তবে দোকানগুলোর বৈধতার পক্ষে কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি আবেদন ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই করে বৈধতা নিশ্চিত হওয়া না গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

লিজের সময়কাল নিয়ে অসংগতি
দোকানের লিজ নেওয়ার সময়কাল নিয়ে রিয়াজের বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলে তাসরিফের বয়স ২৭ বছর। অন্যদিকে, তিনি দাবি করেছেন, দোকানটি ১৯৮৯ সালে লিজ নেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় লিজের মূল নথি, গ্রহীতার পরিচয় এবং লিজের শর্ত যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে এ অসংগতির প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রতিবন্ধী ছেলের নামে দোকান, অর্থের সুবিধাভোগী কে?
সরেজমিনে তাসরিফকে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর নামে দোকান লিজ নেওয়ার দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থাকে কেন্দ্র করে দোকানগুলো থেকে আদায় করা অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দোকান থেকে আয় করা অর্থ তাঁর কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি রাখে। তবে তাসরিফের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে দোকানের আয়-ব্যয়ের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অর্থের লেনদেন ও ব্যয়ের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অনুমোদন, লিজের বৈধতা, দোকানপ্রতি অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ার হিসাব এবং অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই করে সরকারি জায়গার ব্যবহার বৈধ কি না এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নির্ধারণের দাবি উঠেছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


আশুলিয়ায় সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) নতুন শাখার সামনের ফুটওভারব্রিজের নিচে সরকারি জায়গায় স্থায়ী দোকান নির্মাণ করে অগ্রিম ও মাসিক ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রিয়াজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চারটি দোকান থেকে অগ্রিম বাবদ লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি দোকানের বিপরীতে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোকানপ্রতি মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এসব দোকান নির্মাণের অনুমোদন, লিজের বৈধতা এবং অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত রিয়াজের দাবি, তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলে তাসরিফের নামে দোকানগুলো লিজ নেওয়া হয়েছে। তবে দোকানগুলোর বৈধতার পক্ষে কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি আবেদন ঊর্ধ্বতন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাগজপত্র যাচাই করে বৈধতা নিশ্চিত হওয়া না গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

লিজের সময়কাল নিয়ে অসংগতি
দোকানের লিজ নেওয়ার সময়কাল নিয়ে রিয়াজের বক্তব্যে অসংগতি দেখা গেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলে তাসরিফের বয়স ২৭ বছর। অন্যদিকে, তিনি দাবি করেছেন, দোকানটি ১৯৮৯ সালে লিজ নেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থায় লিজের মূল নথি, গ্রহীতার পরিচয় এবং লিজের শর্ত যাচাই করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে এ অসংগতির প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রতিবন্ধী ছেলের নামে দোকান, অর্থের সুবিধাভোগী কে?
সরেজমিনে তাসরিফকে রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর নামে দোকান লিজ নেওয়ার দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থাকে কেন্দ্র করে দোকানগুলো থেকে আদায় করা অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দোকান থেকে আয় করা অর্থ তাঁর কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাইয়ের দাবি রাখে। তবে তাসরিফের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে দোকানের আয়-ব্যয়ের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অর্থের লেনদেন ও ব্যয়ের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সরকারি জায়গায় দোকান নির্মাণের অনুমোদন, লিজের বৈধতা, দোকানপ্রতি অগ্রিম ও মাসিক ভাড়ার হিসাব এবং অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই করে সরকারি জায়গার ব্যবহার বৈধ কি না এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নির্ধারণের দাবি উঠেছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত