নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাহাড় উজিলাব গ্রামের নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ আরিফ মিয়ার সন্ধান ও তাকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। নিখোঁজের ১৯ দিন পার হলেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় পাহাড় উজিলাব বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অংশ নেন।
নিখোঁজ আরিফ (১৫) নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঙ্গালিয়া রহমানিয়া আমানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র। সে আমলাবো ইউনিয়নের পাহাড় উজিলাব গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শহিদ মিয়ার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর আরিফ নিখোঁজ হয়। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার বাবা শহিদ মিয়া বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আরিফ নিখোঁজ থাকলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তারা।
বেলাবো উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া বলেন, এ ঘটনার দায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। তাদের গাফিলতির কারণেই আজ আরিফ নিখোঁজ। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, আরিফকে ছুটি দেওয়া হয়েছে কিন্তু ছুটির চার দিন পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ কারণে আমরা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিকে সন্দেহ করছি। আল্লাহ না করুন, আরিফের সঙ্গে কোনো খারাপ ঘটনা যেন না ঘটে।
আমলাবো ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হুমায়ূন কবির মেম্বার বলেন, আমরা খুঁজেছি, কিন্তু তাকে পাইনি। থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে আশা করি দ্রুত তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
সমাজসেবক ইসলাম উদ্দিন সত্যবাদী বলেন, পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছে। অতিদ্রুত আরিফ মিয়াকে খুঁজে না পেলে গ্রামবাসী কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
নিখোঁজ আরিফের বাবা শহিদ মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আমরা খুবই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। আমার ছেলের সন্ধানের জন্য সরকার, প্রশাসন, সমাজ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আনোয়ার হোসাইন চিশতী বলেন, আরিফুলের বাবার মাধ্যমে তার নিখোঁজের কথা জেনেছি। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং পরে শিক্ষার্থীদের খুঁজে পাওয়া গেছে।
পড়াশোনার তাগিদ দিলে অনেক সময় ছাত্ররা ভৈরব, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো রেলস্টেশনে পালিয়ে যায়। আরিফের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন রেলস্টেশনে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করেছি। আমি আশাবাদী, আরিফুল ফিরে আসবে।
বেলাবো থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ বলেন, নিখোঁজ আরিফ মিয়ার বাবা শহিদ মিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে নিখোঁজ আরিফের কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যাচ্ছে না। তাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য পুলিশ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাহাড় উজিলাব গ্রামের নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র মোহাম্মদ আরিফ মিয়ার সন্ধান ও তাকে সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। নিখোঁজের ১৯ দিন পার হলেও তার সন্ধান না পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় পাহাড় উজিলাব বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অংশ নেন।
নিখোঁজ আরিফ (১৫) নারায়ণপুর ইউনিয়নের কাঙ্গালিয়া রহমানিয়া আমানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার ছাত্র। সে আমলাবো ইউনিয়নের পাহাড় উজিলাব গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. শহিদ মিয়ার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর আরিফ নিখোঁজ হয়। এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার বাবা শহিদ মিয়া বেলাব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আরিফ নিখোঁজ থাকলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তারা।
বেলাবো উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ মিয়া বলেন, এ ঘটনার দায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। তাদের গাফিলতির কারণেই আজ আরিফ নিখোঁজ। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, আরিফকে ছুটি দেওয়া হয়েছে কিন্তু ছুটির চার দিন পর পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ কারণে আমরা মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটিকে সন্দেহ করছি। আল্লাহ না করুন, আরিফের সঙ্গে কোনো খারাপ ঘটনা যেন না ঘটে।
আমলাবো ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হুমায়ূন কবির মেম্বার বলেন, আমরা খুঁজেছি, কিন্তু তাকে পাইনি। থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে আশা করি দ্রুত তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে।
সমাজসেবক ইসলাম উদ্দিন সত্যবাদী বলেন, পুলিশ এ বিষয়টি নিয়ে গড়িমসি করছে। অতিদ্রুত আরিফ মিয়াকে খুঁজে না পেলে গ্রামবাসী কঠিন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।
নিখোঁজ আরিফের বাবা শহিদ মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে আমরা খুবই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। আমার ছেলের সন্ধানের জন্য সরকার, প্রশাসন, সমাজ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আনোয়ার হোসাইন চিশতী বলেন, আরিফুলের বাবার মাধ্যমে তার নিখোঁজের কথা জেনেছি। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং পরে শিক্ষার্থীদের খুঁজে পাওয়া গেছে।
পড়াশোনার তাগিদ দিলে অনেক সময় ছাত্ররা ভৈরব, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো রেলস্টেশনে পালিয়ে যায়। আরিফের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন রেলস্টেশনে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করেছি। আমি আশাবাদী, আরিফুল ফিরে আসবে।
বেলাবো থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ বলেন, নিখোঁজ আরিফ মিয়ার বাবা শহিদ মিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে নিখোঁজ আরিফের কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যাচ্ছে না। তাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য পুলিশ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন