জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

অনুমতি ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাচীন শিমুল গাছ নিধন



অনুমতি ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাচীন শিমুল গাছ নিধন
ছবি : প্রতিনিধি

নওগাঁর মান্দায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিনে বহু বছরের পুরোনো একটি শিমুল গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৩ নম্বর কশব ইউনিয়নের তেগাড়া গ্রামের ময়নাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ময়নাডাঙ্গা এলাকায় নাহিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁর বাড়ির সামনে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরোনো প্রকাণ্ড শিমুল গাছটি কাটতে শুরু করেন।

সরকারি গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে নাহিদ দাবি করেন, উপজেলা বন বিভাগের মাস্টাররোলে কর্মরত ‘শামসুল’ নামের এক কর্মচারীর অনুমতি নিয়েই তিনি গাছটি কাটছেন। একই সঙ্গে বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে নাহিদের এ দাবির সত্যতা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. আলম বলেন, “গাছ কাটার বিষয়টি আমি জানতাম না। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, বন বিভাগের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির ফোনে গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি মাস্টাররোলে কর্মরত শামসুলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর শামসুল জানান, গাছটি বন বিভাগের আওতাধীন নয়; এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন সরকারি একটি গাছ বন বিভাগের মাস্টাররোলে কর্মরত একজন কর্মচারীর তথাকথিত মৌখিক অনুমতিতে কীভাবে কাটা হলো—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিবেশ সচেতন স্থানীয়রা ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অনুমতি ছাড়াই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাচীন শিমুল গাছ নিধন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর মান্দায় সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিনে বহু বছরের পুরোনো একটি শিমুল গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৩ নম্বর কশব ইউনিয়নের তেগাড়া গ্রামের ময়নাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ময়নাডাঙ্গা এলাকায় নাহিদ নামের এক ব্যক্তি তাঁর বাড়ির সামনে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরোনো প্রকাণ্ড শিমুল গাছটি কাটতে শুরু করেন।

সরকারি গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে নাহিদ দাবি করেন, উপজেলা বন বিভাগের মাস্টাররোলে কর্মরত ‘শামসুল’ নামের এক কর্মচারীর অনুমতি নিয়েই তিনি গাছটি কাটছেন। একই সঙ্গে বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে নাহিদের এ দাবির সত্যতা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. আলম বলেন, “গাছ কাটার বিষয়টি আমি জানতাম না। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, বন বিভাগের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তির ফোনে গাছ কাটার খবর পেয়ে তিনি মাস্টাররোলে কর্মরত শামসুলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর শামসুল জানান, গাছটি বন বিভাগের আওতাধীন নয়; এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন সরকারি একটি গাছ বন বিভাগের মাস্টাররোলে কর্মরত একজন কর্মচারীর তথাকথিত মৌখিক অনুমতিতে কীভাবে কাটা হলো—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিবেশ সচেতন স্থানীয়রা ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত