বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শীতল কুমার মহন্তের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ন্ত্রিত কোচিং বাণিজ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিভাবকবৃন্দ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক শীতল কুমার মহন্ত দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষের বাইরে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তাঁর অধীনে কোচিং না পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
পূর্বে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সভায় তাঁকে সতর্ক করা হয় এবং ২০২৩ সালের ২২ মার্চ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠিত সভায় তাঁর বিরুদ্ধে রেজুলেশন গৃহীত হয়। পরবর্তীতে অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গত ১৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে (স্মারক নং: জেলা/শিক্ষা/বগ/২০২৩/২০২৯) তাঁর এক বছরের বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিতের নির্দেশ দেন।
বিভাগীয় শাস্তি সত্ত্বেও তাঁর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি অভিভাবকদের। উল্টো তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও হুমকি প্রদান করে স্ট্যাটাস দেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় অভিভাবকবৃন্দের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরুখ খানের নিকট একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রদানকালে থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ, বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি কে এম মনিরুল ইসলাম খান স্বপন,অভিভাবক সুমি আক্তার,বেলি রানী, ইসমত আরা,জাকির হোসেন সহ সাবেক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগপত্র গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে ফোনে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
ঘটনার বিষয়ে দুপচাঁচিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, "বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ বা প্রশাসন থেকে তাঁর সাথে কোনো প্রকার অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি।
অভিভাবকদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ শিক্ষা দপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত।" তিনি বিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানান।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শীতল কুমার মহন্তের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ন্ত্রিত কোচিং বাণিজ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অভিভাবকবৃন্দ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক শীতল কুমার মহন্ত দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষের বাইরে কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত। তাঁর অধীনে কোচিং না পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
পূর্বে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সভায় তাঁকে সতর্ক করা হয় এবং ২০২৩ সালের ২২ মার্চ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠিত সভায় তাঁর বিরুদ্ধে রেজুলেশন গৃহীত হয়। পরবর্তীতে অভিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গত ১৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে (স্মারক নং: জেলা/শিক্ষা/বগ/২০২৩/২০২৯) তাঁর এক বছরের বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিতের নির্দেশ দেন।
বিভাগীয় শাস্তি সত্ত্বেও তাঁর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি অভিভাবকদের। উল্টো তিনি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও হুমকি প্রদান করে স্ট্যাটাস দেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টায় অভিভাবকবৃন্দের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরুখ খানের নিকট একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ প্রদানকালে থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ, বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি কে এম মনিরুল ইসলাম খান স্বপন,অভিভাবক সুমি আক্তার,বেলি রানী, ইসমত আরা,জাকির হোসেন সহ সাবেক স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগপত্র গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে ফোনে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
ঘটনার বিষয়ে দুপচাঁচিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, "বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ বা প্রশাসন থেকে তাঁর সাথে কোনো প্রকার অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি।
অভিভাবকদের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ শিক্ষা দপ্তরের এখতিয়ারভুক্ত।" তিনি বিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানান।

আপনার মতামত লিখুন