জয়পুরহাট    শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আমতলীতে কলেজের নবীনবরণে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান পুলিশের হেফাজতে চার শিক্ষার্থী



আমতলীতে কলেজের নবীনবরণে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান পুলিশের হেফাজতে চার শিক্ষার্থী
ছবি- সংগৃহীত

বরগুনার আমতলীতে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ চার শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরের পর ওই চার শিক্ষার্থীকে ধরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়। শনিবার তাঁদের আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা এলাকার একটি কলেজে একাদশ ও স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির। তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পেছন থেকে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে ধরে নিয়ে যান বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, কুকুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল আলম এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ফরহাদ ফকির।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চারজনকে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে জালাল উদ্দিন ফকিরের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, “আমার ছেলেকে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী মহিষকাটা থেকে ধরে আমতলী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে রাতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।”

কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, “বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম ও জালাল ফকিরের ছেলে ফরহাদ ফকিরের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমার কলেজের দুই শিক্ষার্থী সাইফুল কাজী ও সুজাকে ধরে নিয়ে যান। রাতে তাঁদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শুনেছি।”

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, “‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁরা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে রাতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমতলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৩২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন।

ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার তাঁদের আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬


আমতলীতে কলেজের নবীনবরণে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান পুলিশের হেফাজতে চার শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বরগুনার আমতলীতে একটি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাসহ চার শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে তাঁদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার দুপুরের পর ওই চার শিক্ষার্থীকে ধরে আমতলী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁদের আমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়। শনিবার তাঁদের আদালতে পাঠানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আমতলী উপজেলার মহিষকাটা এলাকার একটি কলেজে একাদশ ও স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির। তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পেছন থেকে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থী ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনার জেরে শুক্রবার দুপুরে কলেজের সামনে থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল কাজী ও নবীন শিক্ষার্থী সুজাকে ধরে নিয়ে যান বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন, কুকুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল আলম এবং উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ফরহাদ ফকির।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুমার নামাজের পর চুনাখালী মসজিদের সামনে থেকে মো. আসিফ ও মো. তামিম নামের আরও দুই শিক্ষার্থীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চারজনকে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে জালাল উদ্দিন ফকিরের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সাইফুল কাজীর বাবা মো. মাহবুব কাজী বলেন, “আমার ছেলেকে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী মহিষকাটা থেকে ধরে আমতলী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে রাতে তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।”

কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকারিয়া বলেন, “বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম ও জালাল ফকিরের ছেলে ফরহাদ ফকিরের নেতৃত্বে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আমার কলেজের দুই শিক্ষার্থী সাইফুল কাজী ও সুজাকে ধরে নিয়ে যান। রাতে তাঁদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে শুনেছি।”

আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, “‘জয়বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁরা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না এবং কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে রাতে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।”

এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আমতলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় ৩২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি এবং আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন।

ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার তাঁদের আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।”


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত