দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানসহ ৩ থেকে ৪টি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
এ সময় লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে দুটি ল্যাপটপ ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি করাত ও একটি কাস্তে জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর রাত ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ৪০ মিনিটের মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর মৌজায় নবাবগঞ্জ-ভাদুরিয়া সড়কে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। ১২ থেকে ১৩ জনের একটি দল সড়কে গাছ ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
পরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানসহ ৩ থেকে ৪টি যানবাহনের চালক, সহকারী ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
লুণ্ঠিত মালামালের তালিকায় ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮টি মোবাইল ফোন, চারটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার মনিটর, তিনটি ট্যাব, নগদ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোনের বক্স, চার কার্টন ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের ১০টি নথিপত্র। এ ছাড়া আরও কিছু মালামাল লুট করা হয়।
এ ঘটনায় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানচালক মো. আরাফাত প্রামাণিক বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। গত ১২ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ডিবির ওসি মোহাম্মদ আলমগীরের নেতৃত্বে একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শাকিল সরকার (২৬) ও রুহুল আমিন (৩৫); রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রাশেদ মিয়া (৩০), রবিউল প্রধান ওরফে রুবেল (৩৫), সাজু মিয়া (৫৩), আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২) ও মিরাজ মিয়া (২৬); এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাহিন মিয়া (৩০)।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাজু মিয়া, আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান এবং মিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে দুটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ এবং ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার, স্যামসাং ও ম্যাক্সটেল ব্র্যান্ডের ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি করাত ও একটি কাস্তে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তার আটজনকে নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানসহ ৩ থেকে ৪টি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
এ সময় লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে দুটি ল্যাপটপ ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি করাত ও একটি কাস্তে জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন, বিপিএম-সেবা। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর রাত ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ৪০ মিনিটের মধ্যে নবাবগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর মৌজায় নবাবগঞ্জ-ভাদুরিয়া সড়কে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। ১২ থেকে ১৩ জনের একটি দল সড়কে গাছ ফেলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
পরে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানসহ ৩ থেকে ৪টি যানবাহনের চালক, সহকারী ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
লুণ্ঠিত মালামালের তালিকায় ছিল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৮টি মোবাইল ফোন, চারটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার মনিটর, তিনটি ট্যাব, নগদ ১৪ হাজার ৩০০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোনের বক্স, চার কার্টন ওষুধ এবং বিভিন্ন ধরনের ১০টি নথিপত্র। এ ছাড়া আরও কিছু মালামাল লুট করা হয়।
এ ঘটনায় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানচালক মো. আরাফাত প্রামাণিক বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। গত ১২ অক্টোবর দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ডাকাতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং ডিবির ওসি মোহাম্মদ আলমগীরের নেতৃত্বে একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শাকিল সরকার (২৬) ও রুহুল আমিন (৩৫); রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রাশেদ মিয়া (৩০), রবিউল প্রধান ওরফে রুবেল (৩৫), সাজু মিয়া (৫৩), আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২) ও মিরাজ মিয়া (২৬); এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাহিন মিয়া (৩০)।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাজু মিয়া, আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান এবং মিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে দুটি এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ এবং ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার, স্যামসাং ও ম্যাক্সটেল ব্র্যান্ডের ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গাছ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি করাত ও একটি কাস্তে জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তার আটজনকে নবাবগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন