জয়পুরহাট    সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ঘোড়াঘাট

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা



 স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা
ছবি- প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রসূতি মা ও তাঁদের স্বজনরা। প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় গত জুন মাস থেকে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে প্রসবের জন্য ১৬০ জন নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। বাকি ১৩৪ জনের মধ্যে ৯৮ জনের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে অন্য ৩৬ জনের প্রসবের বিষয়ে বিস্তারিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চালু থাকলেও সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে রোগীদের অন্য হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জরুরি মুহূর্তে রোগী স্থানান্তর, যাতায়াতের সময় এবং অতিরিক্ত চিকিৎসাব্যয়ের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলোকে এ পরিস্থিতিতে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা।

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি পার্শ্ববর্তী পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীর সমাগম ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবার চাপ সামলানোর পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হাসপাতালটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু বলেন, “গত তিন মাসে ১৬০ জন ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে ২৬ জনকে রেফার করা হয়েছে। বাকি রোগীদের মধ্যে ৯৮ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। আমাদের অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। তবে কনসালট্যান্ট না থাকায় জুন মাস থেকে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপারেশন থিয়েটার চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তাঁরা এই মুহূর্তে কনসালট্যান্ট দিতে পারছেন না।”

স্থানীয়দের দাবি, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন পুনরায় চালু করা হোক। তাঁদের মতে, সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা ও নবজাতকের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি রোগীদের দূরের হাসপাতালে ছুটে যাওয়ার ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ও কমবে।

এ অবস্থায় ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট নিয়োগ এবং বন্ধ থাকা সিজারিয়ান অপারেশন পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রসূতি মা ও তাঁদের স্বজনরা। প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় গত জুন মাস থেকে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে প্রসবের জন্য ১৬০ জন নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়। বাকি ১৩৪ জনের মধ্যে ৯৮ জনের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে অন্য ৩৬ জনের প্রসবের বিষয়ে বিস্তারিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চালু থাকলেও সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ থাকায় জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে রোগীদের অন্য হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জরুরি মুহূর্তে রোগী স্থানান্তর, যাতায়াতের সময় এবং অতিরিক্ত চিকিৎসাব্যয়ের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলোকে এ পরিস্থিতিতে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা।

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটি পার্শ্ববর্তী পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীর সমাগম ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর চিকিৎসাসেবার চাপ সামলানোর পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হাসপাতালটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু বলেন, “গত তিন মাসে ১৬০ জন ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে ২৬ জনকে রেফার করা হয়েছে। বাকি রোগীদের মধ্যে ৯৮ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। আমাদের অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। তবে কনসালট্যান্ট না থাকায় জুন মাস থেকে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অপারেশন থিয়েটার চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তাঁরা এই মুহূর্তে কনসালট্যান্ট দিতে পারছেন না।”

স্থানীয়দের দাবি, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন পুনরায় চালু করা হোক। তাঁদের মতে, সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা ও নবজাতকের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি রোগীদের দূরের হাসপাতালে ছুটে যাওয়ার ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ও কমবে।

এ অবস্থায় ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট নিয়োগ এবং বন্ধ থাকা সিজারিয়ান অপারেশন পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত