জয়পুরহাট    শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

মাছ,মুরগি ও ডিমের দামে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ



মাছ,মুরগি ও ডিমের দামে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ
ছবি- সংগৃহীত

বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় মারাত্মক চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না। একই সাথে ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ছুয়ে যাওয়ায় পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সাধারণ কেনাকাটায় নাকাল হচ্ছেন ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাংসের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে আজ বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া সোনালি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। আর গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়।

ডিমের বাজারেও অস্বস্তি কাটেনি। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ডজনপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। তবে এলাকাভেদে বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লায় দামে কিছু তফাৎ দেখা যাচ্ছে; পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি ডজন ডিম কিনতে লাগছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা।

বাজারের মুরগি বিক্রেতা তামিম জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, দাম আগের মতোই আছে। আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার বিক্রি করেছেন এবং গত সপ্তাহেও একই দাম ছিল। পাশাপাশি সোনালি মুরগির দরও অপরিবর্তিত থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

একই হাল মাছের বাজারেও। বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা হাঁকা হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়।

আকারভেদে চাষের শিং মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি মাপের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। তবে রূপচাঁদা, শোল কিংবা নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি গুণতে হচ্ছে হাজারের বেশি টাকা। বাজারে ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছুঁয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।

বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা রাজিব চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এসে এখন রীতিমতো তাজ্জব বনে যেতে হয়। আড়াইশ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি চাষের তেলাপিয়াও ২৬০ টাকা কেজি। এমন পরিস্থিতিতে তাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মাছ বিক্রেতা কফিল উদ্দিন বলেন, দামে বড় কোনো হেরফের হয়নি, পূর্বের দর অনুযায়ীই কেনাবেচা চলছে। প্রতিদিনের বাজারে দর ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলে পরদিনই তা আবার বেড়ে যায়।

সাধারণ ক্রেতারা জানান, বাজারে এসে মাছ, মাংস ও ডিম কিনতে গিয়েই পকেটের সব টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। একটির দাম সামান্য কমলে অন্যটির দাম লাফিয়ে বাড়ছে। ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না, আবার ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজারও চড়া। 

আয়-রোজগার সেভাবে না বাড়লেও প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে সংসারের খরচ। আগে যে বাজেটে এক সপ্তাহের কেনাকাটা করা যেত, এখন তা দিয়ে কয়েক দিনও চলানো যায় না। এভাবে ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা একেবারেই কঠিন হয়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাছ,মুরগি ও ডিমের দামে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাজারে একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় মারাত্মক চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না। একই সাথে ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা ছুয়ে যাওয়ায় পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের বাজারদর ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সাধারণ কেনাকাটায় নাকাল হচ্ছেন ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাংসের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে আজ বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া সোনালি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকায়। আর গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়।

ডিমের বাজারেও অস্বস্তি কাটেনি। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ডজনপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। তবে এলাকাভেদে বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লায় দামে কিছু তফাৎ দেখা যাচ্ছে; পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি ডজন ডিম কিনতে লাগছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা।

বাজারের মুরগি বিক্রেতা তামিম জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে মুরগির দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি, দাম আগের মতোই আছে। আজ ১৯০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার বিক্রি করেছেন এবং গত সপ্তাহেও একই দাম ছিল। পাশাপাশি সোনালি মুরগির দরও অপরিবর্তিত থেকে ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

একই হাল মাছের বাজারেও। বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ির দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা হাঁকা হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়।

আকারভেদে চাষের শিং মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি মাপের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। তবে রূপচাঁদা, শোল কিংবা নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে কেজিপ্রতি গুণতে হচ্ছে হাজারের বেশি টাকা। বাজারে ৯০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছুঁয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।

বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা রাজিব চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এসে এখন রীতিমতো তাজ্জব বনে যেতে হয়। আড়াইশ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি চাষের তেলাপিয়াও ২৬০ টাকা কেজি। এমন পরিস্থিতিতে তাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে মাছ বিক্রেতা কফিল উদ্দিন বলেন, দামে বড় কোনো হেরফের হয়নি, পূর্বের দর অনুযায়ীই কেনাবেচা চলছে। প্রতিদিনের বাজারে দর ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলে পরদিনই তা আবার বেড়ে যায়।

সাধারণ ক্রেতারা জানান, বাজারে এসে মাছ, মাংস ও ডিম কিনতে গিয়েই পকেটের সব টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। একটির দাম সামান্য কমলে অন্যটির দাম লাফিয়ে বাড়ছে। ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না, আবার ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজারও চড়া। 

আয়-রোজগার সেভাবে না বাড়লেও প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে সংসারের খরচ। আগে যে বাজেটে এক সপ্তাহের কেনাকাটা করা যেত, এখন তা দিয়ে কয়েক দিনও চলানো যায় না। এভাবে ক্রমাগত দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা একেবারেই কঠিন হয়ে পড়বে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত