সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি জবরদখলের এক ভয়ংকর ও নজিরবিহীন চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের আমদাবাজ গ্রামে একটি প্রভাবশালী চক্র আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তি হরিলুট করে চলেছে।
এই চক্রের থাবায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের আমলের একমাত্র শ্মশান, গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এবং এলাকাবাসীর ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ। ভয়ে ও আতঙ্কে মুখ খুলতে পারছেন না অসহায় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমদাবাজ গ্রামের নূর ইসলাম ও মজিদ গংয়ের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়েছে। নূর ইসলাম তার নিজ আত্মীয়-স্বজনসহ ৮টি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সরকারি খাস জায়গা জোরপূর্বক দখল ও সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। এই জবরদখলের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে শতবর্ষী শ্মশান এবং গ্রামের শত মানুষের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাটি।
গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে মৃতদেহ সৎকার বা শ্মশানকার্য পরিচালনা করে আসলেও আজ তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শ্মশানের জায়গা ও রাস্তা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও মজিদ গংরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন।
দখলদারদের উদ্ধত উচ্চারণ। তোমরা কোথায় শ্মশান দিবে সেটা তোমরা জানো, এখন থেকে আমরা দখল নিয়েছি, এটা আমাদের জায়গা। এলাকার সংখ্যালঘুদের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। সংখ্যায় কম হওয়ায় তারা এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
শুধু শ্মশান বা রাস্তা নয়, হাসারচর আমদাবাদ গ্রামের পূর্বপুরুষের আমল থেকে চলে আসা যুবকদের ফুটবল খেলার মাঠ, ঘোড়ার দৌড় ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের ঐতিহ্যবাহী ফাঁকা জায়গা আজ এই চক্রের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারি এই খাস মাঠটি স্থানীয় কৃষকদের ধান শুকানো, মাড়াই ও আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
দখলদারেরা মাটি কেটে জমি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ধান চাষ এবং স্থায়ী বসতভিটা গড়ে তুলেছেন। বসতভিটার ভিত মজবুত করতেও একই সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে।
সরকারি খাস জায়গা জবরদখলকারী এবং সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী নূর ইসলাম, মজিদ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
শ্মশান ঘাট, চলাচলের একমাত্র রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে তা অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত দরখাস্ত পেশ করবেন।
এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক জবরদখল ও অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে এড়িয়ে যান।

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি জবরদখলের এক ভয়ংকর ও নজিরবিহীন চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের আমদাবাজ গ্রামে একটি প্রভাবশালী চক্র আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে সরকারি সম্পত্তি হরিলুট করে চলেছে।
এই চক্রের থাবায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের আমলের একমাত্র শ্মশান, গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা এবং এলাকাবাসীর ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ। ভয়ে ও আতঙ্কে মুখ খুলতে পারছেন না অসহায় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমদাবাজ গ্রামের নূর ইসলাম ও মজিদ গংয়ের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়েছে। নূর ইসলাম তার নিজ আত্মীয়-স্বজনসহ ৮টি পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে সরকারি খাস জায়গা জোরপূর্বক দখল ও সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। এই জবরদখলের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে শতবর্ষী শ্মশান এবং গ্রামের শত মানুষের চলাচলের একমাত্র সরকারি রাস্তাটি।
গ্রামের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে মৃতদেহ সৎকার বা শ্মশানকার্য পরিচালনা করে আসলেও আজ তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শ্মশানের জায়গা ও রাস্তা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও মজিদ গংরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেন।
দখলদারদের উদ্ধত উচ্চারণ। তোমরা কোথায় শ্মশান দিবে সেটা তোমরা জানো, এখন থেকে আমরা দখল নিয়েছি, এটা আমাদের জায়গা। এলাকার সংখ্যালঘুদের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। সংখ্যায় কম হওয়ায় তারা এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।
শুধু শ্মশান বা রাস্তা নয়, হাসারচর আমদাবাদ গ্রামের পূর্বপুরুষের আমল থেকে চলে আসা যুবকদের ফুটবল খেলার মাঠ, ঘোড়ার দৌড় ও ষাঁড়ের লড়াইয়ের ঐতিহ্যবাহী ফাঁকা জায়গা আজ এই চক্রের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারি এই খাস মাঠটি স্থানীয় কৃষকদের ধান শুকানো, মাড়াই ও আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
দখলদারেরা মাটি কেটে জমি তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ধান চাষ এবং স্থায়ী বসতভিটা গড়ে তুলেছেন। বসতভিটার ভিত মজবুত করতেও একই সরকারি জায়গা থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে।
সরকারি খাস জায়গা জবরদখলকারী এবং সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী নূর ইসলাম, মজিদ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
শ্মশান ঘাট, চলাচলের একমাত্র রাস্তা এবং ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে তা অবিলম্বে উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত দরখাস্ত পেশ করবেন।
এদিকে, এই ন্যাক্কারজনক জবরদখল ও অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও তার সহযোগীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা নানা টালবাহানা শুরু করেন এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে এড়িয়ে যান।

আপনার মতামত লিখুন