জয়পুরহাট    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কালো চালের উপকার জানলে আপনি চমকে উঠবেন



কালো চালের উপকার জানলে আপনি চমকে উঠবেন
ছবি- সংগৃহীত

ভাত বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের অন্যতম প্রধান অংশ। তবে স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই এখন সাদা চালের পাশাপাশি তুলনামূলক বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিভিন্ন ধরনের চাল খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যে কালো চাল বা ব্ল্যাক রাইস বেশ আলোচিত। পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই চাল হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখাসহ শরীরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপকার করতে পারে।

তবে কালো চালের কী কী উপকারিতা রয়েছে এবং নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এটি রাখলে কীভাবে উপকার পাওয়া যেতে পারে, তা জানা জরুরি।
কালো রঙেই লুকিয়ে পুষ্টির ভাণ্ডার কালো চাল দেখতে গাঢ় কালো বা বেগুনি আভাযুক্ত। এর এই বিশেষ রঙের পেছনে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। একই উপাদান ব্লুবেরি ও কালো আঙুরের মতো ফলেও পাওয়া যায়। অ্যান্থোসায়ানিন শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় সহায়ক
কালো চালে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এগুলো খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
সাদা চালের তুলনায় কালো চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম। ফলে এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কম হতে পারে। পাশাপাশি রক্তে ইনসুলিনের ওঠানামাও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। পরিমিত পরিমাণে কালো চাল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক
কালো চালে ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
কালো চালে থাকা ফাইবার দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে কালো চাল খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

সাদা, বাদামি নাকি কালো চাল?
সাদা চাল পালিশ করার সময় চালের বাইরের বিভিন্ন স্তর অপসারণ করা হয়। এতে কিছু পুষ্টি ও ফাইবার কমে যায়। অন্যদিকে বাদামি ও কালো চালে তুলনামূলকভাবে বাইরের স্তর বেশি অক্ষত থাকে, ফলে এগুলোতে ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান বেশি থাকতে পারে।

তবে শুধু চালের রং দেখেই কোনো চালকে বেশি স্বাস্থ্যকর ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চালের ধরন, রান্নার পদ্ধতি এবং কতটা পরিমাণ খাওয়া হচ্ছে, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। বাজার থেকে চাল কেনার সময়ও মান ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাদা চালের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে কালো চাল যুক্ত করা হতে পারে এমনই একটি পরিবর্তন। তবে কোনো একটি খাবারই এককভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণের সমাধান নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সামগ্রিক সুস্থতার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


কালো চালের উপকার জানলে আপনি চমকে উঠবেন

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভাত বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের অন্যতম প্রধান অংশ। তবে স্বাস্থ্যসচেতনতার কারণে অনেকেই এখন সাদা চালের পাশাপাশি তুলনামূলক বেশি পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিভিন্ন ধরনের চাল খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। এর মধ্যে কালো চাল বা ব্ল্যাক রাইস বেশ আলোচিত। পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ এই চাল হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখাসহ শরীরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপকার করতে পারে।

তবে কালো চালের কী কী উপকারিতা রয়েছে এবং নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এটি রাখলে কীভাবে উপকার পাওয়া যেতে পারে, তা জানা জরুরি।
কালো রঙেই লুকিয়ে পুষ্টির ভাণ্ডার কালো চাল দেখতে গাঢ় কালো বা বেগুনি আভাযুক্ত। এর এই বিশেষ রঙের পেছনে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। একই উপাদান ব্লুবেরি ও কালো আঙুরের মতো ফলেও পাওয়া যায়। অ্যান্থোসায়ানিন শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় সহায়ক
কালো চালে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও বিভিন্ন ফাইটোকেমিক্যাল হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। এগুলো খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে ধমনিতে চর্বি জমার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
সাদা চালের তুলনায় কালো চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম। ফলে এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কম হতে পারে। পাশাপাশি রক্তে ইনসুলিনের ওঠানামাও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। পরিমিত পরিমাণে কালো চাল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে খাবারের পরিমাণ ও ধরন নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক
কালো চালে ফাইবারের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
কালো চালে থাকা ফাইবার দীর্ঘসময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে কালো চাল খাওয়া ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

সাদা, বাদামি নাকি কালো চাল?
সাদা চাল পালিশ করার সময় চালের বাইরের বিভিন্ন স্তর অপসারণ করা হয়। এতে কিছু পুষ্টি ও ফাইবার কমে যায়। অন্যদিকে বাদামি ও কালো চালে তুলনামূলকভাবে বাইরের স্তর বেশি অক্ষত থাকে, ফলে এগুলোতে ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান বেশি থাকতে পারে।

তবে শুধু চালের রং দেখেই কোনো চালকে বেশি স্বাস্থ্যকর ধরে নেওয়া ঠিক নয়। চালের ধরন, রান্নার পদ্ধতি এবং কতটা পরিমাণ খাওয়া হচ্ছে, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। বাজার থেকে চাল কেনার সময়ও মান ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সাদা চালের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে কালো চাল যুক্ত করা হতে পারে এমনই একটি পরিবর্তন। তবে কোনো একটি খাবারই এককভাবে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণের সমাধান নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সামগ্রিক সুস্থতার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত